Academy

ধনী বাবার একমাত্র কন্যা ফারজানার বিয়ে হয় প্রতিবেশী ভূমিহীন কৃষকের ছেলে রতনের সাথে। রতন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র। বিয়ের সময় শর্ত থাকে কনে পক্ষ রতনের পড়াশোনার সকল খরচ বহন করা ছাড়াও এম.এ পাশ করার পর তাকে বিদেশে পাঠানোর সকল খরচ বহন করবে।

Created: 8 months ago | Updated: 8 months ago
Updated: 8 months ago
Ans :

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন হয় ১৯২৯ সালে।

8 months ago

বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা

বাংলাদেশের সমাজজীবনে নানারকম সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে দারিদ্র্য, জনসংখ্যা স্ফীতি, নিরক্ষরতা, কুসংস্কার, যৌতুক প্রথা ও বাল্যবিবাহ। এসব সামাজিক সমস্যা ব্যক্তি ও সমাজের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। এই ধরনের সামাজিক সমস্যার ফলে দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যার প্রতিরোধ ও প্রতিকার প্রয়োজন। এজন্য জনগণকে সচেতন হতে হবে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

১. যৌতুকের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
২. যৌতুকের কারণ ও প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৩. যৌতুক নিরোধ আইনের ব্যাখ্যা করতে পারব;
8. যৌতুক প্রতিরোধ ও সমাধানে সামাজিক আন্দোলনের পদক্ষেপ বর্ণনা করতে পারব;
৫. বাল্যবিবাহের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
৬. বাল্যবিবাহের প্রভাব বিশ্লেষণ করতে পারব;
৭. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে পারব;
৮. বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ব্যাখ্যা করতে পারব;

Content added By

Related Question

View More

কন্যা সন্তানকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কন্যাসন্তান শিক্ষিত হলে তারা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, শিক্ষার মাধ্যমে তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হবে। নারীরা উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ফলে অর্থনৈতিক, সামাজিক, পারিবারিক এমনকি রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে।

জাহিদের বাবা-মায়ের প্রস্তাবটি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান সামাজিক সমস্যা যৌতুক প্রথাকে ইঙ্গিত করে।

যৌতুক একটি প্রাচীন প্রথা। প্রাচীন চীন ও এথেন্সে এ প্রথা চালু ছিল। খৌতুক হচ্ছে বিয়ের সময় বরকে প্রদত্ত অর্থ, সম্পত্তি ও নানা ধরনের মূল্যবান আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম। বাংলাদেশের বিবাহ আইনে যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া দুটোই নিষিদ্ধ।

উদ্দীপকের জাহিদের বাবা-মা তার বিয়েতে নানা উপহারসামগ্রী ও টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এখানে ছেলেপক্ষকে উপহার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এটি পরোক্ষভাবে যৌতুক প্রথাকেই সমর্থন করে।

যৌতুক বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক সমস্যার মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম একটি প্রথা। আমরা এ জঘন্যতম সামাজিক প্রথা রোধে যেসব পদক্ষেপ নিতে পারি তা হলো-

প্রথমত, পরিবারের কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষিত হয়ে মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হলে যৌতুকের অভিশাপ তাদেরকে স্পর্শ করতে পারবে না।

দ্বিতীয়ত, যৌতুকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। নারীসমাজ এ জঘন্য প্রথার কারণে প্রতিনিয়ত অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে বা তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। তাই এ প্রথার বিরুদ্ধে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের মনে যৌতুকবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।

তৃতীয়ত, যৌতুক নিরোধ আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। আইন শুধু কাগজে-কলমে থাকলে চলবে না। এর যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

যৌতুক নিরোধের জন্য বাংলাদেশে ফৌজদারি আইন প্রচলিত আছে।

যৌতুক বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে 'যৌতুক নিরোধ আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে যৌতুক নিরোধ আইন সংশোধন করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রথা দমনের জন্য ১৯৮৩ সালে 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন' প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো আইনেই অপরাধীর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

উদ্দীপকে বাংলাদেশের যৌতুক নামক সামাজিক সমস্যার চিত্র ফুটে উঠেছে।

আমাদের দেশের নানা সামাজিক সমস্যার অন্যতম হচ্ছে যৌতুক প্রথা। বিয়ের সময় বর বা কনে বিপরীত পক্ষের কাছ থেকে যে অর্থ বা সম্পত্তি দাবি ও গ্রহণ করে তাকেই বলা হয় যৌতুক। যৌতুক প্রথার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। তবে দারিদ্র্যের কারণেই এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হয়। বাংলাদেশে অনেক সময় কনের পিতার অর্থ-সম্পদ ব্যবহার করেই বর প্রতিষ্ঠা লাভ করতে চায়। যে কারণে সে কনে পক্ষের ওপর যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। যেমনটি উদ্দীপকেও লক্ষণীয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, ধনী বাবার একমাত্র কন্যা ফারজানার বিয়ে হয় প্রতিবেশী ভূমিহীন কৃষকের ছেলে রতনের সাথে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র সে। তবে বিয়ের সময় শর্ত ছিল কনে পক্ষ রতনের পড়াশোনার সব খরচ বহনের পাশাপাশি এম.এ পাশ করার পর তাকে বিদেশে পাঠানোর সব খরচ বহন করবে। উদ্দীপকের এ ঘটনায় যৌতুক নামক সামাজিক কুপ্রথার চিত্র ফুটে উঠেছে।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...